Home » বুদ্ধিজীবী অভিজিৎ রায় হত্যাকান্ড ঢাকায় ৫ জঙ্গির মৃত্যুদণ্ডাদেশ

বুদ্ধিজীবী অভিজিৎ রায় হত্যাকান্ড ঢাকায় ৫ জঙ্গির মৃত্যুদণ্ডাদেশ

আমিনুল হক, হাকিকত নিউজ, ঢাকা:  বিজ্ঞান মনষ্ক লেখক ও বুদ্ধিজীবী অভিজিৎ রায় হত্যাকান্ডে ঢাকায় ৫জনকে মৃত্যুদন্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত। চাঞ্চল্যকর অভিজিৎ হত্যার রায় ঘোষণা করতে গিয়ে ‘আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে হত্যা করতেই জঙ্গিরা অভিজিৎকে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে। পাঁচ বছরের মাথায় বুদ্ধিজীবী অভিজিত রায় হত্যায় ৫ জনের ফাসির আদেশ বের হলো। মঙ্গলবার ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক মজিবুর রহমান এ রায় ঘোষণা করেন।  ২০১৫ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি রাত সোয়া ৯টা নাগাদ এই নৃমংস হত্যাকান্ডটি সংঘটিত হয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি চত্বরের কাছে। অনিদূরে চলছে প্রাণের একুশে বই মেলা।  মেলা শেষ হতে আর দুই দিন বাকী। এ অবস্থায় বেশ জমজামাট মেলা। সেখানে বন্ধুদের সঙ্গে সস্ত্রীক সময় কাটিয়ে ফিরছিলেন অভিজিৎ রায়। অভিজিৎ সস্ত্রীক বইমেলা ঘুরে বের হয়ে সোহরাওয়ার্দি উদ্যানের গেট পিরিয়ে রাস্তায় পা রাখতেই হঠাৎ পেছন থেকে অতর্কিতে তার ওপর ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলে পড়ে জঙ্গিরা। এরপর তাকে ও স্ত্রীকে উপযূপরি আঘাত করে। এক পর্যায়ে তারা মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।  গুরুতর জখম অবস্থায় অভিজিৎ ও স্ত্রী রাফিদা আহমেদ বন্যাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নেওয়া হলে, রাত ১০টার দিকে মারা যান অভিজিৎ। গুরুতর আহত বন্যা দীর্ঘ চিকিৎসার পর সেরে ওঠেন। অভিতের বাবা বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অজয় রায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক। পরদিন ২৭ ফেব্রুয়ারি শাহবাগ থানায় একটি হত্যা মামলা করেন তিনি। ২০১৯ সালের ১৩ মার্চ ঢাকা মহানগর হাকিম সরাফুজ্জামান আনসারীর আদালতে ৬জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের পরিদর্শক মনিরুল ইসলাম। মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হচ্ছে, মেজর (চাকরিচ্যুত) সৈয়দ মোহাম্মদ জিয়াউল হক ওরফে জিয়া, মোজাম্মেল হুসাইন ওরফে সায়মন (সাংগঠনিক নাম শাহরিয়ার), আবু সিদ্দিক সোহেল ওরফে সাকিব ওরফে সাজিদ ওরফে শাহাব, আকরাম হোসেন ওরফে আবির, মো. আরাফাত রহমান ও শফিউর রহমান ফারাবি। এদের মধ্যে জিয়াউল হক ওরফে জিয়া ও আকরাম হোসেন ওরফে আবির শুরু থেকেই পলাতক।

 

সস্ত্রীক অভিজিৎ রায়
সস্ত্রীক অভিজিৎ রায়